মূল অংশে যান

শুরু করার আগে

কীভাবে হিসাব রাখবেন

ব্যক্তিগত হিসাব রাখার নিয়মগুলো ব্যবসার হিসাবের নিয়মের চেয়ে আলাদা নয় — শুধু ছোট। এই পাতায় নিয়মগুলো, সবচেয়ে বেশি হওয়া ভুলগুলো, আর অ্যাপে কী কী আছে ও কী নেই।

ছয়টি নিয়ম

এগুলো এই অ্যাপের নিয়ম নয়, হিসাববিজ্ঞানের নিয়ম। মানলে আপনার খাতা যেকোনো হিসাবরক্ষক পড়তে পারবেন।

  1. প্রারম্ভিক জের দিয়ে শুরু করুন

    আজ ব্যাংকে, বিকাশে আর হাতে যা আছে সেটা প্রথমে বসান। এই সংখ্যাটা ভুল হলে পরের প্রতিটি ব্যালেন্স ভুল হবে — আর হিসাব শুরু করার সঠিক দিন হলো আজ, গত জানুয়ারি নয়।

    যে নিয়মে: IAS 1 — আর্থিক বিবৃতির উপস্থাপন

  2. প্রতিটি টাকার দুই দিক লিখুন

    টাকা কোথা থেকে এল আর কোথায় গেল। অ্যাপ এটা নিজেই করে — আপনি খাত আর অ্যাকাউন্ট বাছলেই ডেবিট-ক্রেডিট বসে যায়। দুই দিক সমান না হলে ডাটাবেজ এন্ট্রিটাই নেয় না।

    যে নিয়মে: ডাবল-এন্ট্রি হিসাবরক্ষণ

  3. রোজ লিখুন, মাস শেষে নয়

    তিন সপ্তাহ পর মনে করে লেখা মানে অনুমান করে লেখা। দিনে দুই মিনিট যথেষ্ট, আর নেট না থাকলেও লেখা যায়।

  4. খাত আর ট্যাগ দুটোই ব্যবহার করুন

    খাত বলে টাকা কীসে গেল — খাবার, যাতায়াত, চিকিৎসা। ট্যাগ বলে কার জন্য — পরিবার, ব্যবসা, রমজান। একই খরচ দুই প্রশ্নের উত্তর দেয়।

    যে নিয়মে: IAS 1.99 — প্রকৃতি অনুযায়ী ব্যয় বিশ্লেষণ

  5. মাস শেষে ব্যাংকের সাথে মেলান

    খাতার ব্যালেন্স আর ব্যাংকের ব্যালেন্স মিলিয়ে নিন। পার্থক্য থাকলে সেটাই বলে দেয় কোনো এন্ট্রি বাদ পড়েছে। এটাকেই হিসাববিজ্ঞানে reconciliation বলে, আর এটা বাদ দিলে বাকি সব পরিশ্রম অনুমান হয়ে যায়।

    যে নিয়মে: ব্যাংক রিকনসিলিয়েশন

  6. নগদ প্রবাহ আর মুনাফা এক জিনিস নয়

    মাসে ৳৫০,০০০ ব্যাংকে ঢুকল মানে ৳৫০,০০০ আয় নয় — এর ভেতরে ধার করা টাকা থাকতে পারে। আয়-ব্যয় বিবরণী বলে আপনি কত কামালেন, নগদ প্রবাহ বিবরণী বলে টাকা কত এল-গেল। দুটোই দরকার।

    যে নিয়মে: IAS 7 — নগদ প্রবাহ বিবরণী

যেভাবে রাখবেন না

প্রতিটি ভুলের ধরন এক: যে টাকা শুধু হাতবদল হয়েছে, সেটাকে আয় বা খরচ লিখে ফেলা। এতে মাসের হিসাব ফুলে ওঠে আর নিট সম্পদ মিথ্যা বলে।

  • যা মানুষ লেখেধার দিলাম ৳২০,০০০ — খরচ

    যা আসলেঋণ প্রদান — সম্পদ (প্রাপ্য)

    টাকাটা এখনো আপনারই, শুধু অন্যের হাতে। নগদ কমেছে, সম্পদ কমেনি। ফেরত পেলে সেটাও আয় নয়।

    যে নিয়মে: IAS 32 — আর্থিক সম্পদ

  • যা মানুষ লেখেধার নিলাম ৳৫০,০০০ — আয়

    যা আসলেঋণ গ্রহণ — দায়

    নগদ বেড়েছে আর সমপরিমাণ দায়ও বেড়েছে, তাই নিট সম্পদ একচুলও বদলায়নি। শুধু সুদটুকু খরচ।

    যে নিয়মে: IAS 32 — আর্থিক দায়

  • যা মানুষ লেখেব্যাংক থেকে বিকাশে ৳৫,০০০ — একদিকে খরচ, আরেকদিকে আয়

    যা আসলেট্রান্সফার

    টাকা আপনারই দুই পকেটের মধ্যে ঘুরেছে। খরচ ও আয় দুটোই লিখলে মাসের দুটো সংখ্যাই ৳৫,০০০ করে ফুলে যায়।

    যে নিয়মে: IAS 7.7 — নগদ ও নগদ সমতুল্যের অভ্যন্তরীণ চলাচল

  • যা মানুষ লেখেক্রেডিট কার্ডের বিল ৳১২,০০০ দিলাম — খরচ

    যা আসলেদায় পরিশোধ

    খরচটা হয়েছিল যেদিন কার্ড দিয়ে কিনেছিলেন, সেদিনই। বিল দেওয়ার দিন শুধু দায় কমছে। দুবার লিখলে একই খরচ দুবার গোনা হয়।

    যে নিয়মে: IAS 37 — দায় নিষ্পত্তি

  • যা মানুষ লেখেডিপিএসের কিস্তি ৳৩,০০০ — খরচ

    যা আসলেসঞ্চয় — সম্পদে স্থানান্তর

    টাকা খরচ হয়নি, এক অ্যাকাউন্ট থেকে আরেকটায় গেছে। নিট সম্পদ অপরিবর্তিত। মুনাফা যেদিন জমা হবে, সেদিনটাই আয়।

    যে নিয়মে: IAS 7.16 — বিনিয়োগ কার্যক্রম

  • যা মানুষ লেখেজমির দাম ৳৫ লাখ বেড়েছে — আয়

    যা আসলেপুনর্মূল্যায়ন

    কিছু বিক্রি হয়নি, তাই নগদ প্রবাহও হয়নি। নিট সম্পদ বাড়ে, আয়-ব্যয় বিবরণী ছোঁয়াও হয় না। বিক্রির দিনই কেবল লাভ-ক্ষতি ধরা হয়।

    যে নিয়মে: IAS 16.39 — পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত

  • যা মানুষ লেখেচারজনে ডিনার ৳৩,০০০ — পুরোটা নিজের খরচ

    যা আসলেনিজের ভাগ ৳৭৫০, বাকি ৳২,২৫০ প্রাপ্য

    আপনি বিল দিয়েছেন, কিন্তু খরচ করেছেন এক-চতুর্থাংশ। বাকিটা তিনজনের কাছে আপনার পাওনা। পুরোটা খরচ লিখলে আপনার মাসিক খরচ চারগুণ দেখায়।

    যে নিয়মে: IFRS 15 — মুখ্য বনাম প্রতিনিধি

ব্যাংকের এসএমএস থেকে কিস্তি

ডিপিএসের কিস্তি, বীমার প্রিমিয়াম, ঋণের কিস্তি — তিনটি বার্তাই দেখতে এক রকম, কিন্তু খাতায় তিন রকম বসে। কোন ঘরে কী দিতে হয়, উদাহরণসহ।

  • আপনার মাসিক ইসলামী ডিপিএস অ্যাকাউন্ট ১৭৮৩০৬০৪০৬০৭০ — মাসিক কিস্তি ১০,০০০ টাকা জমা হয়েছে।

    ধরনট্রান্সফার

    যা বসাবেন

    • কোন হিসাব থেকে — বিকাশ (যেখান থেকে প্রতি মাসে কাটে)
    • কোন হিসাবে — ইসলামী ডিপিএস
    • খাত — লাগবে না, ট্রান্সফারে খাত চাওয়াই হয় না

    খাতায় যা দাঁড়াবেবিকাশ ১০,০০০ কমল, ডিপিএস ১০,০০০ বাড়ল। নিট সম্পদ একই, আর সঞ্চয় পাতায় ওই মাসের কিস্তিতে টিক নিজে পড়ে যায়।

    যে ভুলটা হয়বার্তায় “জমা হয়েছে” আছে বলে আয় রেখে দেওয়া। তাহলে প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা ভুয়া আয় বসে, পাঁচ বছরে ছয় লাখ।

  • Your A/C (***৬৯৪৮) has been debited BDT ১১,৩৩১.০০ for Beftn Inward. Avl Bal: BDT ৮,৫৪,০০৯.১৭

    ধরনখরচ

    যা বসাবেন

    • অ্যাকাউন্ট — যে ব্যাংক থেকে কাটল
    • খাত — বীমা
    • কোন হিসাবে — খালি রাখুন, ভরলে ট্রান্সফার হয়ে যাবে

    খাতায় যা দাঁড়াবেব্যাংক ১১,৩৩১ কমল, বীমার খরচ ১১,৩৩১ বাড়ল। এরপর বীমা পাতায় ওই কিস্তিতে “দিলাম” চাপলে তালিকাটাও মিলে যায়।

    যে ভুলটা হয়ডিপিএসের মতো ট্রান্সফার করা। প্রিমিয়ামের টাকা আপনার হাত ছাড়া হয়ে গেছে — ওটা সত্যিকারের খরচ, সরানো নয়।

  • Tk ১২,৫০০.০০ debited from A/C ২১০১***৭০০১ for Loan Installment, Loan A/C ৭৭৯১৬৯৬১০৭০০১

    ধরনট্রান্সফার

    যা বসাবেন

    • কোন হিসাব থেকে — যে ব্যাংক থেকে কিস্তি কাটে
    • কোন হিসাবে — ঋণের হিসাব (দেনা ধরনের অ্যাকাউন্ট)
    • সুদ আলাদা লেখা থাকলে — সুদটুকুর জন্য আলাদা একটি খরচ

    খাতায় যা দাঁড়াবেব্যাংক ১২,৫০০ কমল, দেনা ১২,৫০০ কমল। খরচ বেড়েছে কেবল সুদের অংশটুকু।

    যে ভুলটা হয়পুরো কিস্তিকে খরচ লেখা। তাহলে দেনা কাগজে-কলমে রয়েই যায়, আর মাসের খরচ যা নয় তা-ই দেখায়।

  • You have sent Tk ৫,০০০.০০ to 01XXXXXXXXX. Ref: kisti. Balance Tk ৩,২১০.৫০

    ধরনধার ফেরত

    যা বসাবেন

    • কোন ধারের ফেরত — তালিকা থেকে ধারটি বেছে নিন
    • অ্যাকাউন্ট — যে বিকাশ বা ব্যাংক থেকে পাঠালেন

    খাতায় যা দাঁড়াবেওই ধারের বাকি টাকা ৫,০০০ কমল। আয়-ব্যয়ের কোথাও কিছু বসল না — টাকা হাতবদল হয়েছে, মালিক বদলায়নি।

    যে ভুলটা হয়ধারটির নাম না বলা। তাহলে খাতায় টাকা কমে, কিন্তু ধার পাতায় বাকির অঙ্ক আগের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে থাকে।

অ্যাপে যা যা আছে

নিচের প্রতিটি জিনিস আজই কাজ করে। পাশে লেখা আছে কোন পর্দায় পাবেন, আর যেটা মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝে সেটা আলাদা করে বলা।

রোজকার হিসাব

যা প্রতিদিন লাগে

  • আয় ও খরচ লেখা

    কোথায়: নিচের + বোতাম, যেকোনো পর্দা থেকে

    টাকার অঙ্ক, খাত, তারিখ — তিনটি ঘর। বাকি সব ঐচ্ছিক এবং ভাঁজ করা থাকে।

    ইন্টারনেট না থাকলেও লেখা যায়। সংযোগ ফিরলে নিজে থেকেই চলে যাবে।

  • ট্রান্সফার

    কোথায়: নতুন লেনদেন → ট্রান্সফার

    এক অ্যাকাউন্ট থেকে আরেকটিতে। খরচ হিসেবে গণ্য হয় না, কারণ টাকা আপনারই থেকে যায়।

  • খাত ও উপ-খাত

    কোথায়: সেটিংস → খাত ব্যবস্থাপনা

    বড় খাতের ভেতরে ছোট ভাগ। রিপোর্টে উপ-খাতগুলো নিজের বড় খাতের নিচে যোগ হয়ে দেখায়।

  • ট্যাগ

    কোথায়: আরও → ট্যাগ

    খাত বলে কীসে খরচ, ট্যাগ বলে কার জন্য — পরিবার, ব্যবসা, রমজান।

    একটি খরচে একাধিক ট্যাগ থাকতে পারে, তাই ট্যাগের যোগফল মাসের মোট খরচের চেয়ে বেশি হতে পারে। রিপোর্টে সেটি আলাদা করে বলা থাকে।

  • পরিমাণ ও একক

    কোথায়: লেনদেনের ঘরে "পরিমাণ লিখবেন?"

    ৳12,000 তেলে খরচ আর ৩৪০ লিটার তেল — দুটো আলাদা প্রশ্ন। ৫৬টি একক আছে: কেজি, লিটার থেকে মণ, ভরি, কাঠা, বিঘা, পাউন্ড, গ্যালন।

    তালিকায় না থাকলে "অন্য একক লিখুন" — নিজের একক সেটিংসেও যোগ করা যায়।

টাকা কোথায়

অ্যাকাউন্ট, সম্পদ, দায়

  • অ্যাকাউন্ট

    কোথায়: আরও → অ্যাকাউন্ট

    নগদ, ব্যাংক, মোবাইল ওয়ালেট, ক্রেডিট কার্ড, সঞ্চয়, আর সম্পদ (জমি, স্বর্ণ, গাড়ি) ও দায়।

    ড্যাশবোর্ডে "হাতে ও ব্যাংকে" শুধু খরচযোগ্য টাকা; জমি-স্বর্ণ "নিট সম্পদ"-এ আলাদা করে গোনা হয়।

  • অ্যাকাউন্টের বিবরণী

    কোথায়: অ্যাকাউন্টের পাশে কাগজের আইকন

    ব্যাংকের স্টেটমেন্টের মতো: প্রারম্ভিক জের, প্রতিটি লেনদেন ডেবিট-ক্রেডিট কলামে, প্রতি সারিতে চলতি জের, শেষে সমাপনী জের। প্রিন্ট, এক্সেল আর শেয়ার লিংক — তিনটাই আছে।

    প্রতিটি সারিতে বিপরীত খাতও লেখা থাকে — তাই ৳5,000 তুলে নেওয়া আর ৳5,000 বাড়ি ভাড়া দেওয়া আলাদা করে চেনা যায়।

  • ব্যালেন্স মেলানো

    কোথায়: অ্যাকাউন্টের পাশে দাঁড়িপাল্লার আইকন

    আসল ব্যালেন্স লিখে দিন, পার্থক্যটা সমন্বয় হিসেবে বসে যাবে।

  • সম্পদের পুনর্মূল্যায়ন

    কোথায়: সম্পদের পাশে ঊর্ধ্বমুখী তীর

    জমির দাম বেড়েছে? এখনকার মূল্য লিখুন। ইতিহাস থাকে।

    এটি আয় নয় এবং নগদ প্রবাহেও যায় না — শুধু নিট সম্পদ বদলায়। কারণ কিছু বিক্রি হয়নি।

  • সঞ্চয় ও ডিপিএস

    কোথায়: আরও → সঞ্চয় ও ডিপিএস

    কিস্তি, মেয়াদ, মুনাফার হার — মেয়াদপূর্তিতে কত হবে তা হিসাব করে দেখায়।

  • বীমা

    কোথায়: আরও → বীমা

    পলিসি, প্রিমিয়ামের তারিখ, কোনটা বাকি।

কিস্তি কীভাবে তুলবেন

ব্যাংকের এসএমএস থেকে খাতায় — কোন কিস্তি কোন ধরনে বসে

  • এসএমএস খসড়া হয়ে জমা হয়

    কোথায়: ইনবক্স

    ফোন বা মেইল থেকে আসা টাকার বার্তা খসড়া হয়ে অপেক্ষা করে। তারিখ, অঙ্ক আর অ্যাকাউন্ট অ্যাপ নিজেই পড়ে নেয়; আপনি ধরন আর খাত মিলিয়ে দিলে খাতায় ওঠে।

    বার্তা শুধু নিজের অ্যাকাউন্টটা দেখে। টাকাটা কোথা থেকে গেল বা কোথায় গেল — সেটা কেবল আপনি জানেন, আর ওই ঘরটাই খরচ আর ট্রান্সফারের পার্থক্য গড়ে দেয়।

  • ডিপিএসের কিস্তি — ট্রান্সফার

    কোথায়: ইনবক্স → ধরন: ট্রান্সফার

    “মাসিক ডিপিএস অ্যাকাউন্ট ১৭৮৩০৬০৪০৬০৭০ — কিস্তি ১০,০০০ টাকা জমা হয়েছে” এলে ধরন ট্রান্সফার, “কোন হিসাব থেকে” যেখান থেকে কাটে, “কোন হিসাবে” ডিপিএস অ্যাকাউন্ট। খাত লাগে না।

    বার্তায় “জমা হয়েছে” থাকায় অ্যাপ প্রথমে আয় ধরে বসে। ট্রান্সফার না করলে প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা ভুয়া আয় জমতে থাকে। ঠিকভাবে তুললে সঞ্চয় পাতায় ওই মাসের কিস্তিতে টিকও নিজে পড়ে যায়।

  • বীমার প্রিমিয়াম — খরচ

    কোথায়: ইনবক্স → ধরন: খরচ

    “Your A/C (***৬৯৪৮) has been debited BDT ১১,৩৩১.০০” এলে ধরন খরচ, অ্যাকাউন্ট ওই ব্যাংক, খাত বীমা। “কোন হিসাবে” ঘরটা খালি রাখুন — ভরলে ট্রান্সফার হয়ে যাবে।

    ডিপিএসের ঠিক উল্টো: প্রিমিয়ামের টাকা হাতছাড়া হয়ে যায়, তাই সত্যিকারের খরচ। এরপর বীমা পাতায় ওই কিস্তিতে “দিলাম” চাপুন — সেই বোতাম কেবল টিক দেয়, টাকা বসায় না।

  • ব্যাংক ঋণের কিস্তি — ট্রান্সফার

    কোথায়: ইনবক্স → ধরন: ট্রান্সফার

    ঋণটিকে “দেনা” ধরনের একটি অ্যাকাউন্ট হিসেবে খুলুন, তারপর কিস্তিকে ব্যাংক থেকে ওই দেনায় ট্রান্সফার করুন। দেনা ঠিক ততটাই কমবে।

    বার্তায় সুদ আলাদা লেখা থাকলে দুটি এন্ট্রি: আসলটা ট্রান্সফার, সুদটা খরচ। ঋণ শোধ করা খরচ নয় — দেনা কমানো; খরচ কেবল সুদটুকু।

  • মানুষের ধারের কিস্তি — ধার ফেরত

    কোথায়: ইনবক্স → ধরন: ধার ফেরত

    ধরন “ধার ফেরত” বেছে নিয়ে “কোন ধারের ফেরত” থেকে ধারটি বাছুন। ধার পাতায় বাকি টাকা নিজে থেকেই কমে যাবে।

    ধার দেওয়া বা ফেরত পাওয়া আয়-ব্যয় নয়, হাতবদল। যে ধারটির নাম বলবেন না, সেটির বাকি টাকা কমবেও না।

ধার-দেনা ও মানুষজন

কে কত পাবে, কে কত দেবে

  • ঋণ দেওয়া ও নেওয়া

    কোথায়: নিচের ট্যাব → ঋণ

    সুদসহ বা সুদ ছাড়া, কিস্তিতে। প্রতিটি কিস্তি খাতায় ওঠে।

    ঋণ দিলে টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে কমে কিন্তু খরচ হয় না — ওটা পাওনা হয়ে থাকে।

  • পার্টি লেজার

    কোথায়: ঋণ → ব্যক্তির নাম

    একজন মানুষের সব ঋণ আর ভাগাভাগির হিসাব এক চলমান জেরে।

  • মানুষজন ও তাঁদের কোড

    কোথায়: আরও → মানুষজন

    প্রত্যেকের একটি কোড — P-0001, P-0002। একই নামের দুজনকে আলাদা রাখে।

    মোবাইল নম্বর দিলে একই মানুষ দুবার তৈরি হয় না — ধার আর ট্রিপের হিসাব এক জায়গায় থাকে।

ভাগাভাগি

একসাথে খরচ

  • গ্রুপ ও খরচ ভাগ

    কোথায়: আরও → ভাগাভাগি

    ট্রিপ, মেস, অফিস। সমান ভাগে, শতাংশে, নির্দিষ্ট টাকায় বা ভাগ অনুযায়ী।

    আপনার ভাগটুকুই আপনার খরচে যায়। ৳3,000-এর ডিনার চারজনে ভাগ করলে আপনার মাসিক খরচে ৳750 উঠবে, ৳3,000 নয়।

  • অগ্রিম ও পরিশোধ

    কোথায়: গ্রুপ → টাকা দেওয়া-নেওয়া

    খরচ হওয়ার আগেই কাউকে টাকা দিলে সেটাও লেখা যায়। পরের বিলের ভাগ থেকে নিজে থেকেই কেটে যাবে।

  • সবাই মিলে তহবিল

    কোথায়: গ্রুপ → তহবিল খুলুন

    পারিবারিক ফান্ড, অফিস সমিতি, ট্রিপের চাঁদা। সবাই চাঁদা দেয়, খরচ ওখান থেকে যায়।

    অন্যের চাঁদা আপনার কাছে তাঁর পাওনা হয়ে থাকে — তহবিল আপনার হাতে থাকলেও টাকাটা তাঁর।

  • ট্রিপের পাবলিক লিংক

    কোথায়: গ্রুপ → শেয়ার

    যাকে পাঠাবেন তিনি অ্যাকাউন্ট ছাড়াই দেখবেন: মোট খরচ, কে কত দিয়েছে, কার ভাগ কত, কে কাকে কত দেবে।

    গ্রুপের বাইরের কিছুই যায় না — আপনার অ্যাকাউন্ট, অন্য খরচ, কিছুই না।

  • যাঁর অ্যাকাউন্ট আছে তাঁকে আমন্ত্রণ

    কোথায়: গ্রুপ → সদস্যের পাশে ব্যক্তি-যোগ আইকন

    তিনি নিজের খাতায় খরচগুলো খসড়া হিসেবে পাবেন।

    তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর খাতায় কিছুই লেখা হয় না, আর তিনি আপনার খাতা দেখতে পান না।

রিপোর্ট

টাকা কোথায় গেল, আর আপনি কোথায় দাঁড়িয়ে

  • খাত, ট্যাগ ও প্রবণতা

    কোথায়: নিচের ট্যাব → রিপোর্ট

    নিজের সময়সীমা বেছে নিন। খাতে চাপ দিলে ভেতরের লেনদেনগুলো দেখা যায়।

  • আর্থিক বিবৃতি

    কোথায়: রিপোর্ট → আর্থিক বিবৃতি

    আয়-ব্যয় বিবরণী, স্থিতিপত্র, নগদ প্রবাহ আর নিট সম্পদের পরিবর্তন — এক পাতায়, প্রিন্টযোগ্য।

    নগদ প্রবাহ তিন ভাগে: পরিচালন, বিনিয়োগ, অর্থায়ন। বেতন আর ধার করা টাকা এক সংখ্যায় মেশে না।

  • পরিমাণের রিপোর্ট

    কোথায়: রিপোর্ট → পরিমাণ

    কত কেজি চাল, কত লিটার তেল — দাম বাড়ল না অভ্যাস বদলাল, সেটা এখানেই ধরা পড়ে।

  • বিবরণী শেয়ার

    কোথায়: ব্যক্তি, ঋণ, সঞ্চয় বা বীমার পাতায় → শেয়ার

    তারিখ বেছে লিংক বানান। পাওনাদার, ব্যাংক বা বিমা কোম্পানি অ্যাকাউন্ট ছাড়াই দেখবে ও প্রিন্ট করবে।

    লিংকের মেয়াদ থাকে, যেকোনো সময় বাতিল করা যায়, আর কতবার খোলা হয়েছে দেখানো হয়।

তথ্য আনা-নেওয়া

হাতে না লিখে

  • ফাইল থেকে আনা

    কোথায়: আরও → ইমপোর্ট ও এক্সপোর্ট

    ব্যাংকের CSV বা এক্সেল ফাইল। কোন কলাম কী, সেটা নিজে অনুমান করে নেয়; ভুল হলে বদলে দিন।

    আগে যা এসেছে তা আবার আসে না। পুরো ব্যাচ এক চাপে ফিরিয়েও নেওয়া যায়।

  • মেইলবক্স যুক্ত করা

    কোথায়: সেটিংস → ইমেইল থেকে স্টেটমেন্ট

    ব্যাংকের চিঠি নিজে থেকেই পড়ে খসড়া বানায়।

    খসড়া আপনি না দেখা পর্যন্ত খাতায় ওঠে না।

  • টেলিগ্রাম

    কোথায়: সেটিংস → টেলিগ্রাম

    ক্রেডিট কার্ডের বিল কবে দিতে হবে, মনে করিয়ে দেবে।

অ্যাপ ও নিরাপত্তা

  • ফোনে ইনস্টল

    কোথায়: ব্রাউজারের মেনু → হোম স্ক্রিনে যোগ করুন

    অ্যাপের মতোই চলে, ইন্টারনেট ছাড়াও খোলে।

    নতুন সংস্করণ এলে নিজে থেকেই হালনাগাদ হয় — আবার ইনস্টল করতে হয় না।

  • ভাষা

    কোথায়: সেটিংস → ভাষা

    বাংলা বা ইংরেজি। খাতার ভাষা, তাই রিপোর্ট আর শেয়ার করা বিবরণীও সেই ভাষায় যায়।

  • সাইন-ইন করা ডিভাইস

    কোথায়: সেটিংস → যেসব ডিভাইসে লগইন আছে

    অচেনা কিছু দেখলে এক চাপে বের করে দিন।

  • কার্যবিবরণী

    কোথায়: আরও → কার্যবিবরণী

    কে কখন কী বদলেছে। মুছে ফেলার কোনো উপায় নেই — আমাদেরও নেই।

কী পাবেন

ফ্রি প্যাকেজে (আজীবন ফ্রি)

  • দুটি অ্যাকাউন্ট — যেমন একটি ব্যাংক আর হাতের নগদ
  • সীমাহীন লেনদেন, মাসের কোনো কোটা নেই
  • সীমাহীন দেনাদার-পাওনাদার, ঋণ ও কিস্তি
  • চারটি আর্থিক বিবৃতি, যেকোনো তারিখ পরিসরে
  • ভাগাভাগি (ShareCost) — গ্রুপ, তহবিল, পাবলিক লিংক
  • ডিপিএস, সঞ্চয় ও বীমার হিসাব
  • বিবরণী শেয়ার করার লিংক
  • টেলিগ্রাম থেকে এন্ট্রি ও তাগাদা
  • অফলাইনে লেখা, ফোনে ইনস্টল

প্রিমিয়ামে বাড়তি (৳৩৫০/মাস)

  • সীমাহীন অ্যাকাউন্ট
  • রসিদের ছবি জুড়ে রাখা
  • মেইলবক্স যুক্ত করে ব্যাংকের চিঠি পড়া
  • পুরো খাতা CSV-তে রপ্তানি
  • AI দিয়ে মাসিক পর্যালোচনা
  • একই খাতায় একাধিক সদস্য

কী পাবেন না

এগুলো এখানে নেই। জেনে সাইন আপ করা ভালো, পরে আবিষ্কার করার চেয়ে।

  • ব্যাংকের সাথে সরাসরি সংযোগ — কোনো ব্যাংকের API নেই, আপনার ব্যাংকের পাসওয়ার্ডও চাওয়া হয় না। তথ্য আসে আপনার লেখা থেকে, মেইলবক্স থেকে বা CSV থেকে।
  • শেয়ারবাজার বা বিনিয়োগের পোর্টফোলিও — দাম নিজে থেকে হালনাগাদ হয় না। সম্পদ হিসেবে রাখা যায়, দাম আপনি বসাবেন।
  • ব্যবসার চালান, ভ্যাট বা পে-রোল — এটা ব্যক্তিগত হিসাবের সফটওয়্যার, ERP নয়।
  • গুগল প্লে বা অ্যাপ স্টোরের অ্যাপ — এখন ব্রাউজার থেকে হোম স্ক্রিনে বসে, অফলাইনেও চলে। স্টোরের অ্যাপ পরের ধাপ।
  • ব্যাংকের এসএমএস নিজে পড়া — কাঠামো তৈরি, প্রতিটি ব্যাংকের ছাঁচ বসানো বাকি।
  • পেমেন্ট আর অ্যাকাউন্ট নিজে থেকে মিলিয়ে নেওয়া — বিকাশ ও কার্ডে টাকা দেওয়া যায়, কিন্তু কে দিলেন সেটি এখনো হাতে মিলিয়ে প্যাকেজ চালু করা হয়।

নিয়ম বোঝা হয়েছে, এবার লিখুন

অ্যাকাউন্ট খুলতে এক মিনিট, প্রথম খরচ লিখতে দশ সেকেন্ড। কার্ড লাগবে না, আর যেকোনো দিন সব তথ্য নামিয়ে নিতে পারবেন।